Blog
ডায়াবেটিস আসলে কী? ডায়াবেটিস কত প্রকার?

বর্তমান সময়ে যে রোগটি সবচেয়ে নীরবে, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ছে—তার নাম ডায়াবেটিস। এটি কোনো হঠাৎ হওয়া রোগ নয়, আবার শুধুমাত্র “বেশি মিষ্টি খাওয়ার” সরল ফলাফলও নয়। ডায়াবেটিস হলো একটি লাইফস্টাইল-ড্রিভেন মেটাবলিক ডিসঅর্ডার, যা বছরের পর বছর ভুল খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা এবং সচেতনতার অভাবে ধীরে ধীরে শরীরে গড়ে ওঠে।
অনেকেই ডায়াবেটিসকে হালকাভাবে নেন—
“ট্যাবলেট খেলেই তো ঠিক আছে”,
“সবাই তো এখন ডায়াবেটিসে ভুগছে”,
“বয়স হলে এমনিই হয়”—
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ডায়াবেটিস শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর উপসর্গগুলো অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পায়। এ কারণেই ডায়াবেটিসকে বলা হয় Silent Killer।
ডায়াবেটিস কী? (What is Diabetes?)
ডায়াবেটিস হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। সাধারণভাবে বলা যায়, ডায়াবেটিস তখনই হয় যখন শরীর খাবার থেকে পাওয়া শক্তিকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
আমরা প্রতিদিন ভাত, রুটি, আলু, ফল কিংবা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাই। এই খাবারগুলো হজম হওয়ার পর ধাপে ধাপে ভেঙে শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে পরিণত হয়। এই গ্লুকোজই আমাদের শরীরের প্রধান জ্বালানি বা শক্তির উৎস, যা দিয়ে চলাফেরা, কাজ করা, চিন্তা করা—সবকিছুই সম্ভব হয়।
কিন্তু এই গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের ভেতরে পৌঁছে দিতে একটি বিশেষ হরমোনের প্রয়োজন হয়, যার নাম ইনসুলিন। ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি থেকে। ইনসুলিনকে অনেক সময় একটি “চাবি” বলা হয়, কারণ এই হরমোনটি কোষের দরজা খুলে দেয়, যাতে গ্লুকোজ ভেতরে ঢুকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে যে প্রক্রিয়াটি ঘটে তা হলো—প্রথমে আমরা খাবার গ্রহণ করি, সেই খাবার হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়, যা রক্তে থাকা গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে। কোষ সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে এবং শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিস হলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। হয়তো শরীরে ইনসুলিন যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হয় না, অথবা ইনসুলিন তৈরি হলেও কোষ সেটিকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। ফলে গ্লুকোজ রক্তেই জমে থাকতে শুরু করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এই দীর্ঘ সময়ের উচ্চ রক্তশর্করাই ডায়াবেটিসের মূল সমস্যা এবং বিভিন্ন জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডায়াবেটিস কত প্রকার?
ডায়াবেটিসকে সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ধরনের ডায়াবেটিসের কারণ, শরীরের ওপর প্রভাব এবং ব্যবস্থাপনা একে অন্যের থেকে ভিন্ন।
১. টাইপ–১ ডায়াবেটিস
টাইপ–১ ডায়াবেটিস সাধারণত শিশু, কিশোর বা অল্প বয়সে দেখা যায় এবং এটি মূলত একটি অটোইমিউন রোগ। অর্থাৎ এখানে শরীরের বাইরের কোনো জীবাণু নয়, বরং শরীরের নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম)ই সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই ক্ষেত্রে যা ঘটে তা হলো—শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) ভেতরে থাকা ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। ধীরে ধীরে ইমিউন সিস্টেম এই কোষগুলোর ওপর আক্রমণ চালায় এবং একসময় সেগুলো সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফল হিসেবে শরীরে ইনসুলিন তৈরি হওয়ার ক্ষমতা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।
ইনসুলিন না থাকলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। তখন গ্লুকোজ রক্তেই জমে থাকে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়। অন্যদিকে কোষ প্রয়োজনীয় শক্তি না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে, যার কারণে রোগী দ্রুত ক্লান্ত, দুর্বল ও অসুস্থ অনুভব করতে পারে।
টাইপ–১ ডায়াবেটিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। এই ধরনের ডায়াবেটিসে শরীর নিজে থেকে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, তাই রোগীকে আজীবন বাইরের উৎস থেকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। এখানে খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিন জীবনযাপনের ভূমিকা তুলনামূলক কম হলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এই রোগ হওয়ার পেছনে প্রধানত জেনেটিক প্রবণতা এবং অটোইমিউন প্রক্রিয়া বড় ভূমিকা রাখে।
সহজভাবে বলা যায়, টাইপ–১ ডায়াবেটিস কোনো ভুল খাবার খাওয়ার কারণে হঠাৎ হয় না; বরং এটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমের একটি জটিল সমস্যার ফল, যার জন্য সারা জীবনের বিশেষ যত্ন ও নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
২. টাইপ–২ ডায়াবেটিস (সবচেয়ে বেশি প্রচলিত)
টাইপ–২ ডায়াবেটিস বর্তমানে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস রোগীর ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এই ধরনে আক্রান্ত। এই ডায়াবেটিসে মূল সমস্যা ইনসুলিনের অভাব নয়, বরং ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা। অর্থাৎ শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও কোষগুলো সেই ইনসুলিনকে ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ধীরে ধীরে কোষগুলোর ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমে যায়, যাকে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এর ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে পারে না এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে।
টাইপ–২ ডায়াবেটিস সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না; এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা একটি জীবনযাপনজনিত সমস্যা। অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের ভেতরের চর্বি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিয়মিত বেশি কার্বোহাইড্রেট ও প্রসেসড খাবার খাওয়া শরীরের ইনসুলিন সিস্টেমকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন না বা দীর্ঘ সময় বসে থাকেন, তাদের শরীর গ্লুকোজ ব্যবহার করতে অভ্যস্ত থাকে না, ফলে শর্করা রক্তে জমে যায়। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে ইনসুলিনের কাজ আরও বাধাগ্রস্ত করে এবং অনিয়মিত বা কম ঘুম এই সমস্যাকে আরও তীব্র করে তোলে।
টাইপ–২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, এমনকি রোগের শুরুতেই সঠিক পদক্ষেপ নিলে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরিয়ে আনা যায়। সময়মতো খাবারের ধরন পরিবর্তন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত চলাফেরা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি ধীরে ধীরে উন্নত করা সম্ভব। তাই টাইপ–২ ডায়াবেটিসকে শুধুমাত্র ওষুধের রোগ না ভেবে জীবনযাপনের একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৩. গেস্টেশনাল ডায়াবেটিস
গেস্টেশনাল ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থার সময় কিছু নারীর মধ্যে সাময়িকভাবে দেখা দেওয়া এক ধরনের ডায়াবেটিস। গর্ভধারণের পর শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, যেগুলো মূলত শিশুর বেড়ে ওঠা ও গর্ভধারণ ঠিকভাবে বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন। তবে এই হরমোনগুলোর একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো—এগুলো শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে ইনসুলিন রক্তে থাকা গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে ঠিকভাবে নিতে পারে না এবং ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর হরমোনের ভারসাম্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং গেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের সমস্যাটিও নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। যেসব নারীর গর্ভাবস্থায় গেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। শুধু তাই নয়, এটি মা ও শিশুর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে—যেমন ভবিষ্যতে শিশুর ওজন সমস্যা বা মেটাবলিক ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা।
এই কারণেই গর্ভকালীন সময় থেকেই খাবার নির্বাচন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হালকা ব্যায়াম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সন্তান জন্মের পরও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়।
ডায়াবেটিস হলে শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে?
ডায়াবেটিস নিজে অনেক সময় তেমন কষ্ট না দিলেও এর জটিলতাগুলোই সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর সমস্যা। কারণ রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে এটি ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ক্ষতিগুলো একদিনে বোঝা যায় না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলো জীবনমানকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করে দেয়।
দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে প্রথমেই ঝুঁকি বাড়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের। অতিরিক্ত শর্করা রক্তনালির ভেতরের দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। একইভাবে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে কিডনি ড্যামেজ হতে পারে, যা একসময় ডায়ালাইসিস বা কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
চোখের ক্ষেত্রেও ডায়াবেটিস খুব নীরবে ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন শর্করা বেশি থাকলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পা ঝিনঝিন করা, অবশ লাগা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া শুরু হয়, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ডায়াবেটিসের আরেকটি সাধারণ কিন্তু কম আলোচিত জটিলতা হলো যৌন দুর্বলতা। রক্তপ্রবাহ ও স্নায়ু ক্ষতির কারণে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া ও স্নায়ু ক্ষতির কারণে ছোট ক্ষত সহজে শুকায় না, ফলে পায়ের ঘা ও ইনফেকশন তৈরি হয়, যা মারাত্মক অবস্থায় পা কেটে ফেলার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
এই সব কারণেই বলা হয়—ডায়াবেটিসকে অবহেলা করা অত্যন্ত ভয়ংকর। শুরু থেকেই যদি সচেতনতা, সঠিক খাবার, নিয়মিত জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া যায়, তাহলে এই জটিলতাগুলো অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস কি হঠাৎ ধরা পড়ে?
অনেক সময় ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন শরীরে উপস্থিত থাকলেও তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। কারণ শুরুতে এই রোগ ধীরে ধীরে এগোয় এবং শরীর কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে বহু মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এ কারণেই ডায়াবেটিসকে অনেক সময় “নীরব রোগ” বলা হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকলে কিডনি তা শরীর থেকে বের করার চেষ্টা করে, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়ে। প্রস্রাবের সঙ্গে বেশি পানি বের হয়ে যাওয়ায় শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং বারবার তৃষ্ণা অনুভূত হয়। কোষে গ্লুকোজ ঠিকভাবে প্রবেশ করতে না পারায় শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না, তাই সারাদিন ক্লান্ত বা অবসন্ন লাগতে পারে। একই কারণে শরীরের ক্ষত বা কাটাছেঁড়া দ্রুত শুকাতে চায় না, বরং সেরে উঠতে দেরি হয়। আবার রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে চোখের লেন্সে সাময়িক পরিবর্তন আসে, যার ফলে চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে ঝুঁকির বিষয় হলো—অনেক মানুষের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের কোনোটিই স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। বাইরে থেকে শরীর স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে উচ্চ রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে থাকে। এই নীরব অগ্রগতির কারণেই ডায়াবেটিস দেরিতে ধরা পড়ে এবং তখন জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং সচেতনতা এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শেষ কথা
ডায়াবেটিস কোনো হঠাৎ আসা শত্রু নয়—এটি দীর্ঘদিনের ভুল সিদ্ধান্তের ফল। শরীর আমাদের আগে থেকেই সতর্ক সংকেত দেয়, কিন্তু আমরা সেগুলো উপেক্ষা করি।
ডায়াবেটিস মানে এই নয় যে জীবন শেষ।
বরং এটি শরীরের একটি স্পষ্ট বার্তা—
“এখনই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার সময়।”
সঠিক জ্ঞান, সচেতনতা, খাবার ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানোও সম্ভব।











