Blog

রোজায় সুগার ওঠানামা কেন হয়?

রোজায় সুগার ওঠানামা কেন হয়?

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় উপবাসের কারণে শরীরের স্বাভাবিক শক্তি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। আমরা যখন নিয়মিত খাবার খাই, তখন রক্তে গ্লুকোজ বা ব্লাড সুগারের মাত্রা একটি ভারসাম্যে থাকে। কিন্তু রোজায় ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খাওয়ার ফলে শরীর প্রথমে রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করে, এরপর লিভারে জমা গ্লাইকোজেন ভেঙে শক্তি নেয়। দীর্ঘ সময় পরে এই মজুদও কমে গেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে—ফলে হঠাৎ দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা বা কাঁপুনি দেখা দেয়।

অন্যদিকে, ইফতারের সময় যদি হঠাৎ করে অতিরিক্ত মিষ্টি, শরবত বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে শর্করা খুব দ্রুত বেড়ে যায়। শরীর তখন বেশি ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা কিছু সময় পরে সুগার দ্রুত কমিয়ে দেয়। এই দ্রুত ওঠানামা (স্পাইক ও ক্র্যাশ) থেকেই অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব বা বিরক্তিভাব তৈরি হতে পারে।

পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপও সুগারের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। তাই রোজায় ব্লাড সুগার ওঠানামা হওয়া অস্বাভাবিক নয়; তবে সুষম সেহরি, নিয়ন্ত্রিত ইফতার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে এই ওঠানামা অনেকটাই কমানো সম্ভব।


১. দীর্ঘ সময় উপবাস

রোজায় দীর্ঘ সময় উপবাসের কারণে শরীরে ধাপে ধাপে জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ভোরে সেহরির পর যখন আর কোনো খাবার গ্রহণ করা হয় না, তখন শরীর প্রথমে রক্তে থাকা গ্লুকোজ (Blood Glucose) ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে। এটি শরীর ও মস্তিষ্কের প্রধান তাৎক্ষণিক জ্বালানি উৎস।

কয়েক ঘণ্টা পর রক্তের গ্লুকোজ কমে আসতে শুরু করলে শরীর লিভারে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্লাইকোজেনোলাইসিস। সাধারণত এই মজুদ শক্তি সীমিত—বিশেষ করে যদি সেহরিতে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও আঁশ না থাকে।

যখন দীর্ঘ সময় খাদ্য গ্রহণ হয় না এবং গ্লাইকোজেনের মজুদ কমে যায়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যেতে পারে। একে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Low Blood Sugar)। এ সময় শরীরে বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে, যেমন:

  • হঠাৎ দুর্বলতা
  • কাঁপুনি বা হাত-পা কাঁপা
  • মাথা ঘোরা
  • অতিরিক্ত ঘাম
  • মনোযোগে ঘাটতি

এই লক্ষণগুলো মূলত মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত গ্লুকোজ না পৌঁছানোর ফল। তাই সুষম সেহরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করলে রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকে এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কমে।


২. সেহরিতে ভুল খাবার নির্বাচন

সেহরি হলো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিল, কারণ এখানকার খাবারই সারাদিনের রক্তে শর্করা ও শক্তির স্তর নির্ধারণ করে। অনেকেই সেহরিতে শুধু সাদা ভাত, সাদা আটা বা অন্য পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খান। এগুলো দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করা খুব দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো—এই বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিছু সময় পরই সুগার দ্রুত কমে যায়, ফলে দুপুরের আগেই দুর্বলতা, কাঁপুনি, মাথা ঝিমঝিম বা অতিরিক্ত ক্ষুধা দেখা দিতে পারে।

এ অবস্থাকে অনেক সময় “সুগার ক্র্যাশ” বলা হয়। কারণ দ্রুত বাড়া ইনসুলিন শরীর থেকে শর্করা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর ফলে এনার্জি স্থিতিশীল থাকে না এবং মনোযোগেও প্রভাব পড়ে।

ধীরে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট—যেমন ওটস, লাল আটা বা আটার রুটি—রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বাড়ায়। এর সঙ্গে যদি প্রোটিন (ডিম, ডাল, দই) যোগ করা হয়, তাহলে হজম প্রক্রিয়া আরও ধীর হয় এবং সুগার দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকে। এতে সারাদিন শক্তি তুলনামূলকভাবে সমানভাবে পাওয়া যায় এবং হঠাৎ দুর্বলতা আসে না।

অর্থাৎ, সেহরিতে শুধু পেট ভরানো নয়—বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচনই সুগার নিয়ন্ত্রণ ও সারাদিনের এনার্জি ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।


৩. ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি

সারাদিন উপবাসের পর শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। এই অবস্থায় যদি ইফতারে হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে মিষ্টি, চিনিযুক্ত শরবত বা ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে গ্লুকোজ খুব দ্রুত বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারগ্লাইসেমিয়া (Hyperglycemia)

রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে গেলে শরীর তা নিয়ন্ত্রণ করতে দ্রুত ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণ করে। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে পাঠানো। কিন্তু অনেক সময় ইনসুলিনের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে রক্তে শর্করা আবার খুব দ্রুত কমে যায়। একে বলা হয় রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া

এই ওঠানামার ফলাফল কী হয়?

  • ইফতারের কিছু সময় পর হঠাৎ দুর্বল লাগা
  • মাথা ঘোরা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • ঘুম ঘুম ভাব
  • আবার মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা

অর্থাৎ, প্রথমে দ্রুত শক্তি পাওয়া গেলেও তা স্থায়ী হয় না। বরং শরীর আরও বেশি অবসন্ন হয়ে পড়ে।

এ কারণে ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত শরবতের পরিবর্তে ধীরে হজম হয় এমন সুষম খাবার বেছে নেওয়া উচিত। পানি দিয়ে শুরু করে ১–২টি খেজুর, তারপর হালকা ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেলে রক্তে শর্করা স্থির থাকে এবং শরীর কম ক্লান্ত হয়।

সারকথা, ইফতারের সময় দ্রুত শক্তি নয়—স্থিতিশীল শক্তিই হওয়া উচিত লক্ষ্য।


. পানিশূন্যতা

রোজায় দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) তৈরি হতে পারে। যখন শরীরে পানির পরিমাণ কমে যায়, তখন রক্ত আরও ঘন হয়ে পড়ে। এতে রক্তে থাকা গ্লুকোজের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি মনে হতে পারে, অর্থাৎ রক্তের সুগার লেভেল বাড়তে পারে।

এছাড়া কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করতে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না যদি পর্যাপ্ত পানি না থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্যহীন হয়ে যেতে পারে। ডিহাইড্রেশন আরও একটি সমস্যা তৈরি করে—এটি শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়াতে পারে, যা আবার রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

তাই রোজায় ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও ধাপে ধাপে পানি পান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক হাইড্রেশন শুধু তেষ্টা কমায় না, বরং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


৫. ঘুমের অভাব ও স্ট্রেস

রোজায় সাধারণত ঘুমের সময়সূচি পরিবর্তিত হয়—রাতে দেরি করে ঘুমানো, সেহরির জন্য ভোরে ওঠা, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দিনের বেলা কাজের চাপ। এই অনিয়মের ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল-এর মাত্রা বাড়তে পারে।

কর্টিসলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শরীরকে “সতর্ক” বা সক্রিয় রাখা। বিপদের সময়ে বা চাপের মধ্যে শরীর দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। অর্থাৎ কর্টিসল লিভারকে সংকেত দেয় জমা শক্তি (গ্লাইকোজেন) ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করতে। ফলে রক্তে শর্করা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়।

যখন পর্যাপ্ত ঘুম হয় না, তখন—

  • কর্টিসল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় উচ্চ থাকে
  • ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে
  • রক্তে সুগারের ওঠানামা বেড়ে যায়

অন্যদিকে মানসিক স্ট্রেস—যেমন কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতা—একইভাবে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন বাড়ায়। এগুলো শরীরকে “এনার্জি রিলিজ” অবস্থায় রাখে, যার ফলে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।

তাই রোজায় সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু খাবার নয়, ভালো ঘুম মানসিক প্রশান্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা নড়াচড়া এবং স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস ব্লাড সুগার স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।


৬. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের শরীরের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কম কার্যকর হয়। তাই রোজার সময় সুগার ওঠানামার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ওষুধ বা ইনসুলিনের সময় পরিবর্তন। সাধারণ দিনে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া হয়। কিন্তু রোজার সময় খাবারের সময় বদলে যায়—ফলে ওষুধের ডোজ ও সময় সঠিকভাবে সামঞ্জস্য না করলে কখনো সুগার বেশি বেড়ে যেতে পারে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া), আবার কখনো বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।

দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ উপবাস। দীর্ঘ সময় না খেলে শরীরের গ্লুকোজ কমে যেতে পারে, বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা সুগার কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন। এতে মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, ঘাম হওয়া বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

তৃতীয়ত, ভুল খাদ্যাভ্যাস। ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি, শরবত বা ভাজাপোড়া খেলে হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। আবার সেহরিতে সুষম খাবার না খেলে দিনের বেলায় সুগার কমে যেতে পারে। এই দ্রুত ওঠানামা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এ কারণেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে ওষুধের সময় ও ডোজ সমন্বয় করতে হয়। পাশাপাশি নিয়মিত ব্লাড সুগার মনিটরিং করলে ঝুঁকি কমানো যায়। সচেতনতা ও পরিকল্পনাই নিরাপদ রোজার মূল চাবিকাঠি।


সুগার স্থিতিশীল রাখতে করণীয়

রোজার সময় ব্লাড সুগার স্থিতিশীল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে সুগারের ওঠানামা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সেহরিতে প্রোটিন আঁশ রাখুন
সেহরিতে শুধু সাদা ভাত বা রুটি না খেয়ে প্রোটিন (ডিম, ডাল, দই) ও আঁশযুক্ত খাবার (সবজি, ওটস) রাখুন। প্রোটিন ও ফাইবার ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকে। এতে দুপুরের আগে হঠাৎ দুর্বলতা বা কাঁপুনি কম হয়।

ইফতারে মিষ্টি সীমিত করুন
ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত শরবত খেলে সুগার দ্রুত বেড়ে যায়। পরে ইনসুলিনের প্রভাবে আবার দ্রুত কমে গিয়ে ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা হতে পারে। তাই ইফতার শুরু করুন পানি ও ১–২টি খেজুর দিয়ে, এরপর সুষম খাবার নিন।

ভাগ করে পানি পান করুন
ডিহাইড্রেশন রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বাড়াতে পারে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ধাপে ধাপে পানি পান করলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ইফতারের পর ১০–১৫ মিনিট হাঁটুন
খাওয়ার পর হালকা হাঁটা পেশিকে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে ওঠে না এবং হজমও ভালো হয়।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুমের অভাব হলে কর্টিসল হরমোন বাড়ে, যা রক্তে সুগার বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম সুগার স্থিতিশীল রাখার জন্য অপরিহার্য।

সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত রুটিনই রোজায় ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


শেষ কথা

রোজায় ব্লাড সুগার ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়, কারণ দীর্ঘ সময় উপবাসে শরীরের শক্তির উৎস বদলে যায়। তবে এটি অনিবার্য বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। যদি আমরা সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করি এবং একটি পরিকল্পিত রুটিন অনুসরণ করি, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

সুষম সেহরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—ধীরে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশ যুক্ত খাবার সুগার ধীরে বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়। ইফতারে হঠাৎ অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খেলে সুগার দ্রুত বাড়ে ও পরে কমে যায়, ফলে দুর্বলতা তৈরি হয়। তাই নিয়ন্ত্রিত ও ধীরগতির খাবার গ্রহণ সুগার ব্যালান্সের জন্য উপকারী।

পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, কারণ পানিশূন্যতা রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বাড়াতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম ও নির্দিষ্ট খাবারের সময় শরীরের হরমোন ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

রমজান শুধু উপবাসের সময় নয়—এটি নিজের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন শুদ্ধ করার সুযোগ। সচেতন পরিকল্পনা ও সঠিক খাবার নির্বাচন করলে রোজা হতে পারে নিরাপদ, সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *