Blog
রমজানে সুস্থ থাকার ১০টি ঘরোয়া উপায়

রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকে ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই, রমজানে সুস্থ ও সতেজ থাকার জন্য কিছু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। আজকে আমরা এই ব্লগে আলোচনা করব কিভাবে রমজানে সুস্থ থাকা যায় তার ১০ টি ঘরোয়া উপায়।

রমজানে সুস্থ থাকার ১০টি ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি।
রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধির মাস, আর আত্মশুদ্ধির জন্য শরীর ও মন দুটিই সুস্থ থাকা জরুরি। সুস্থ না থাকলে ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, অথচ সুস্থতা আমাদের ইবাদতে মনোযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই রমজানে সুস্থ ও সতেজ থাকার জন্য আমাদের কিছু প্রয়োজনীয় ঘরোয়া উপায় মেনে চলা উচিত। চলুন, জেনে নিই রমজানে সুস্থ থাকার ১০টি কার্যকর ঘরোয়া উপায়।
১. স্বাস্থ্যকর সেহরির অভ্যাস গড়ে তুলুন
রমজানে সুস্থ থাকার জন্য সেহরিতে এমন খাবার নির্বাচন করুন যা দীর্ঘক্ষণ আপনাকে এনার্জি দিবে। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট (যেমন ওটস, ব্রাউন রাইস), প্রোটিন (ডিম, দই, বাদাম), এবং হাইড্রেটিং ফুড (শসা, টমেটো) গ্রহণ করুন। তৈলাক্ত ও চিনি-সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন।
সেহরিতে আপনি নিয়মিত তালবিনা খেতে পারেন, তালবিনা আপনাকে সারাদিন এনার্জেটিক রাখবে, তালবিনাতে রয়েছে (কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (B1, B2, B3, B6), ভিটামিন C, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ, অ্যান্টিঅক্সিডে, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান)
২. পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন
পানি শারীরিক কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং পানিশূন্যতা দূর করে। সারাদিন পানি পান না করার কারণে আমাদের শরীরে পানি ঘাটতি দেখা দেয়, তাই রমজানে সুস্থ থাকার জন্য ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। পানির সাথে খাবার স্যালাইন খেতে পারেন, কিন্তু এর সাথে প্রোসেস ট্যাং, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান না করাই ভালো।
৩. সুষম ইফতার গ্রহণ করুন
রমজানে সুস্থ থাকতে সুষম ইফতার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারে খেজুর, পানি, ফল, শস্যজাতীয় খাবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা উচিত। ভাজাপোড়া কমিয়ে প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করা ভালো। ইফতারে চিয়াসিড অথবা সিডমিক্স ও আখের গুড়ের শরবত পান করুন, পর্যাপ্ত পানি পান করলে হাইড্রেশন বজায় থাকে। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করে ইফতার শরীরকে চাঙ্গা ও সুস্থ রাখে।
ইফতারে তালবিনা খাওয়া একটি দারুণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে, কারণ এটি শরীরকে প্রশান্তি দেয় এবং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তাই ইফতারে পুষ্টিকর ও উপকারী এই তালবিনা খাবারটি অন্তর্ভুক্ত করুন।
৪. পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন
পরিমিত খাবার গ্রহণ সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম মূলনীতি। অতিরিক্ত খাবার খেলে হজমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রমজানে ইফতার ও সেহরিতে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা জরুরি, যাতে শরীর ভারী অনুভূত না হয় এবং হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে। পরিমিত খাবার মানে হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত না খাওয়া এবং পুষ্টিগুণ বজায় রেখে সুষম খাদ্য নির্বাচন করা। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেলে হজম ভালো হয় এবং কম পরিমাণেই পরিপূর্ণতা অনুভূত হয়। শরীরের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে পরিমিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. হালকা ব্যায়াম করুন
রমজানে ভারী ব্যায়াম করার পরিবর্তে হালকা ব্যায়াম বা ওয়াক করুন। ইফতারের এক ঘণ্টা পরে ২০-৩০ মিনিট হাঁটা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
সেহরি এবং তারাবিহর জন্য ঘুমের রুটিন পরিবর্তন হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে চেষ্টা করুন। অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি, যাতে শরীর সতেজ থাকে।
৭. ক্যাফেইন ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান
চা, কফি এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সেহরিতে এগুলো কম গ্রহণ করুন। বরং ফলের জুস বা ডাবের পানি, তালবিনা, খেজুর খাওয়া ভালো।
৮. ধীরে ধীরে খাবার খান
ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত খাবার খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। ধীরে চিবিয়ে খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয় এবং শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের পুষ্টি শোষণ করতে পারে। এছাড়া, ধীরে খাবার খেলে মস্তিষ্ক তৃপ্তি সিগন্যাল পাঠানোর জন্য যথেষ্ট সময় পায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়। বিশেষ করে রমজানে ইফতার ও সেহরিতে ধীরে খাবার খাওয়া জরুরি, যাতে শরীর সহজে মানিয়ে নিতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
৯. মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখুন
রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। স্ট্রেস কমানোর জন্য ধ্যান করুন, কুরআন তেলাওয়াত করুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করুন। মানসিক প্রশান্তি শারীরিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আয়েশা (রাঃ) বলেন:
❝ যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারবর্গের কেউ অসুস্থ হতো, তখন তিনি তালবিনা প্রস্তুত করতে বলতেন। তারপর বলতেন, ❛ এটি রোগীর মনকে প্রশান্ত করে এবং তাকে সতেজ করে তোলে। ❜ ❞
📖 সহিহ বুখারি: ৫৬৯০ | 📖 সহিহ মুসলিম: ২২১৬
১০. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকার জন্য সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করুন।
উপসংহারঃ রমজান মাস ইবাদাতের মাস, বেশি বেশি ইবাদাত করতে হলে অবশ্যয়ই আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলে রমজানে সুস্থ থাকা সম্ভব। আপনার সুস্থতার জন্য এই ১০টি টিপস অনুসরণ করুন এবং রমজান উপভোগ করুন এবং ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করুন।
আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের E-Book টি ডাউনলোড করুন। বইটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে রমজানে সুস্থ থাকবেন, কি কি খাবার গ্রহন করবেন, কোন কোন ইবাদাত গুলো বেশি করবেন।